বুধবার, ১৭ জানুয়ারী ২০১৮, ০৬:০৩

মন্তব্য-বিশ্লেষণ
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০১৫ ১১:৫৩:৫০ অপরাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী

এই সব সোনার ছেলে

আওয়ামী লীগের বড় আদরের সংগঠন সোনার ছেলেদের ছাত্রলীগ। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের একবারে নিম্নস্তরের নেতারাও বিএনপি বা ২০ দলীয় জোটের নেতানেত্রীদের সিজিল করে দেবেন বলে অবিরাম হাঁকাহাঁকি করছেন। তারা বলছেন, বিএনপিকে শায়েস্তা করতে মূল আওয়ামী লীগকে মাঠে নামতে হবে না; ছাত্রলীগই যথেষ্ট এবং সেভাবেই তারা ছাত্রলীগকে ব্যবহার করছে বলেই মনে হয়। প্রথম দিকে তারা বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অছাত্রলীগারদের পিটিয়ে বের করে দিতে শুরু করল। ভাবটা যেন এমন ছাত্রলীগ ছাড়া দেশের পাবলিক বা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে লেখাপড়ার জন্য আর কেউ নাম লেখাতে পারবে না। শিবির তো নয়ই, ছাত্রদলও না।

লেখাপড়া তাদের উদ্দেশ্য নয়, উদ্দেশ্য বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজকেন্দ্রিক টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজির একচ্ছত্র মালিক হবে ছাত্রলীগ। এর বাইরে কেউ নয়। সুতরাং লেখাপড়া শিকেয় উঠল। ছাত্রলীগ টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তারে নিজেকে নিয়োজিত করল। কেড়ে নিলো লাখ লাখ ছাত্রের লেখাপড়ার অধিকার। আওয়ামী নেতারা বাহবা দিলেন। বললেন, শাবাশ ছাত্রলীগ। এখনো মাঝে মধ্যে খবর বের হয়, শিবির বা ছাত্রদল সন্দেহ করে ছাত্রলীগ তাদের সহপাঠীদের পিটিয়ে পুলিশে হস্তান্তর করেছে। এই পুলিশই বা কে? সরকার এই ঘটনাবলিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। কেউ যদি বিনা অপরাধে কাউকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে পুলিশের কাছে নিয়ে যায়, তাহলে পুলিশের প্রথম কর্তব্য হলোÑ ওই নির্যাতনকারীদের সাথে সাথে ধরে গারোদে পোরা। সে না করে পুলিশ ছাত্রলীগের ছেলেদের চা-নাশতা আপ্যায়ন করে তাদের হাতে আহত অর্ধমৃতদের গারোদে পুরছে।

সরকার কিংবা সুশীলসমাজ কোথাও এর প্রতিবাদ নেই। নির্যাতনের শিকার যুবকটির যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। না সে পুলিশের ওপর বিশ্বাস করতে পারছে, না সে আদালতে গিয়ে ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা করতে পারছে। হতে পারে আদালতে গিয়ে বিচার চাইবার আর্থিক সঙ্গতি ওই নিরীহ শিক্ষার্থীদের নেই। বিচারের বাণী নীরবে-নিভৃতে কাঁদতেই থাকে। কাঁদছে। হাজারো পরিবারের হৃদয় নিঃসৃত দীর্ঘশ্বাস সরকারকে ভস্ম করে দেয়ার মতো জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরিতে পরিণত হচ্ছে।

এরা শিক্ষার স্বার্থে নয়, আর্থিক ফায়দা হাসিলের জন্য নিজেরা দলবদ্ধ হয়ে গ্রুপে গ্রুপে অবিরাম যুদ্ধ করছে। সে যুদ্ধেও প্রাণ হারাচ্ছে বহু তরুণ। এসব তরুণের পরিবারেও কান্নার রোল। আবার অভিসম্পাতের আগুনে এ সরকারের তখতে তাউস উত্তপ্ত হচ্ছে। এক সময় যা ধসে পড়বে।

ধর্ষণেও ছাত্রলীগের সোনার ছেলেদের নামডাক। এই ধর্ষকেরা আবার সরকারে খুবই প্রিয়ভাজন হয়ে থাকে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের এমন এক নেতা নানা কৌশলে এক শ’ ছাত্রীকে ধর্ষণ করে ধর্ষণে সেঞ্চুরি উৎসব পালন করেছিল। পুরস্কার হিসেবে তাকে সরকার একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রান্সপোর্ট অফিসার হিসেবে চাকরি দিয়েছিল। অর্থাৎ যে যত বড় ধর্ষক বা নারী নির্যাতনকারী, তার তত বড় পুরস্কার। এখনো প্রায় প্রতিদিন সংবাদপত্রে খবর প্রকাশিত হয়, ধর্ষণ করতে গিয়ে ধরা পড়েছে কোনো লীগ নেতা। স্থানীয় এমপি বা প্রভাবশালী কোনো আওয়ামী লীগ নেতা থানায় গিয়ে তাকে ছাড়িয়ে এনেছেন।

কোথাও এক প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার এক বিচার দেখলাম সেটি হলো, শিশু ধর্ষণকারী অপর এক আওয়ামী লীগ নেতার বিচার করেছেন সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী। এ ধরনের বিচার করার তার এখতিয়ারই নেই। তার পরও দেখা গেল, ওই ধর্ষণকারীর ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হয়েছে; কিন্তু জরিমানার টাকা ধর্ষিতা বা তার পরিবার পাবে না, পাবে ধর্ষিতা যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে সে প্রতিষ্ঠান। ধর্ষক ওই প্রতিষ্ঠানেরই শিক্ষক।

আওয়ামী লীগ ধর্ষণকারী বা নারী নির্যাতনকারী হলে তার বিরুদ্ধে সাধারণত থানা কোনো মামলাই নেয় না। কেমন করে নেবে? কারণ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুলিশের কর্তাব্যক্তিরাও নিয়মিত ধর্ষণকারী। চাঁদাবাজি, জিম্মিকরণ, ভীতিপ্রদর্শন, অর্থ আদায়Ñ এসব তো পুলিশের নিয়মিত ঘটনা। কিন্তু কোনোটারই শাস্তির তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। মাঝে মধ্যে খবর বের হয়, এসব অপরাধের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে কিংবা ঢাকা থেকে বদলি করে অন্যত্র পোস্টিং দেয়া হয়েছে। যে অপরাধের শাস্তি হওয়ার কথা কোনো গুরুদণ্ড, সে অপরাধের শাস্তি ক্লোজ বা ট্রান্সফার। সাধারণ মানুষের সাথে ইয়ার্কিরও একটা মাত্রা থাকে।

হত্যার ক্ষেত্রেও তাই। সদরঘাট এলাকায় দর্জি বিশ্বজিৎ হত্যায় যাদের সাজা হয়েছে, এরা সবাই ছাত্রলীগার। কিন্তু এরা পলাতক। সাভারে বোমা ফুটলে পুলিশ ঠিক ঠিক বের করে ফেলে যে, ঢাকার গুলশানে বসে বোমা ফাটিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পুলিশের চোখের সামনে মাত্র পাঁচ গজ দূরে যখন কেউ খুন হয় কিংবা কেউ শ্লীলতাহানির শিকার হয়Ñ তাহলে এখানে বাঁক ছিল, ওখানে অন্ধকার ছিল, সেখানে কেউই ছিল না এসব অজুহাত দেখায় পুলিশ। গ্রেফতার করতে পারে না। নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের আসামিদের একজন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রীর জামাতা। এরা সবাই শিকার করেছেন, অর্থের বিনিময়ে এরা নারায়ণগঞ্জের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ সাতজনকে খুন করেছেন।

জামায়াতের এক নেতা কলেজের অধ্যাপক নিপাট ভদ্রলোক তাসনীম আলমকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগই দাঁড় করানো যায়নি। কিন্তু দেখলাম তাকে ডাণ্ডাবেড়ি পরিয়ে আদালতে আনা-নেয়া করছে। আর মায়ার জামাতাকে যখন আদালতে আনা হলো তখন মনে হলো তারা বোধকরি শ্বশুরবাড়িতে শীতের পিঠার দাওয়াত খেতে এসেছেন। রিয়েলি, আনন্দিত হওয়ার মতো ঘটনা বৈকি। এসব দেখে এ কথা নিশ্চিত করেই বলা যায়, ওই সাত খুনের সত্যিকার কোনো বিচার হবে না। হলেও তা এমনভাবে সাজানো হবে যে যেন লঘু হয় এবং অতি অল্প সময়ের মধ্যে বিশেষ উপলক্ষে তাদের ক্ষমা করে বাইরে নিয়ে আসা যায়। কেউই বিশ্বাস করে না যে, এই খুনিদের কখনো ন্যায়বিচার হবে। আওয়ামী লীগের এমপি শাওনের গাড়িতে তার নিজস্ব রিভলবারের গুলিতে খুন হয়েছিলেন তারই এক সহযোগী ইব্রাহিম। কিন্তু লাশ নিয়ে যাওয়া হয়নি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ বা সরকারি কোনো হাসপাতালে। শাওনের উপস্থিতিতে লাশ নিয়ে এরা ক্লিনিকে ক্লিনিকে ঘুরেছে। কেউ ধরা পড়েনি। কারো বিচার হয়নি।

আওয়ামী লীগের এক অভিনেতা মন্ত্রীর গাড়িবহরে তথাকথিত হামলার অভিযোগে পুলিশ একে একে জনাদশেক বিরোধী রাজনীতিতে বিশ্বাসী লোককে এখানে সেখানে গুলি করে হত্যা করেছে। এর কোনো হত্যারই কিনারা হয়নি। বিচার তো দূরের কথা, ১৯৯৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সময় থার্টি ফার্স্ট নাইটে উৎসব হয়েছিল টিএসসি এলাকায়। বরাবরই তাই হয়। সেখানে ছাত্রছাত্রীরা, তরুণ-তরুণীরা ওই উৎসবে শামিলও হয়। তাতে শামিল হতে এসেছিলেন বাঁধন নামে এক তরুণী। সেখানেও ছাত্রলীগের ছেলেরাই তাকে অর্ধ উলঙ্গ করে দলিত, মথিত ও লাঞ্ছিত করে। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছিল তাদের চিহ্নিত করা হয়েছিল। বাঁধন একটি মামলা করেছিলেন, কিন্তু বখাটেদের হুমকির মুখে তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। ১০ বছর পর সে মামলার সব আসামিকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়। রায়ে বলা হয়েছিল, বাদি সাক্ষী না দেয়ায় তা প্রমাণিত হয়নি। অভিযুক্তদের সবার ছবি স্পষ্ট ছিল। প্রমাণ হওয়ার জন্য সেটাই ছিল যথেষ্ট। কিন্তু সেদিন যদি এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক সাজা হতো, তাহলে হয়তো এবারের পয়লা বৈশাখের ঘটনাটি ঘটত না। সেদিন পুলিশ ছিল। আরো ছাত্রলীগার ছিল। সাধারণ ছাত্রছাত্রীরাও ছিল। সবান্ধব যারা ছিলেন তারা ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটে জীবন ও ইজ্জত রক্ষা করেছেন। আর ছাত্রলীগাররা পুলিশের সামনে বাঁধনের দেহের স্পর্শকাতর অংশ ছিন্নভিন্ন করেছে। কোনো বিচার হয়নি।

বিচার না হতে হতে পরিস্থিতি এমন জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে যে, এখন নারী নির্যাতন বিশ্ববিদ্যালয়ে সতীর্থ তরুণীরা ছাত্রলীগের হামলার আওতার বাইরে থাকছেন না। বাঁধনের ওপর নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছিল মধ্যরাতে। আর গত পয়লা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে যা ঘটেছে প্রকাশ্য দিবালোকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কমপক্ষে ছয়জন তরুণীকে টিএসসি বা তার আশপাশ এলাকায় দলে, মুচড়ে, কামড়ে ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছে। টিএসসি এলাকায় যখন এ ঘটনা ঘটে, তখন সেখানে হাজারো ছাত্রলীগ কর্মী উপস্থিত ছিল। এরা সে দৃশ্য উপভোগ করেছে। প্রতিবাদ করেনি।

ছাত্র ইউনিয়নের কয়েকজন কর্মী ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করতে গিয়েছিল। নিজের গায়ের পাঞ্জাবি পরিয়ে দিয়েছে। প্রতিদান হিসেবে ছাত্রলীগাররা পিটিয়ে তার হাত ভেঙে দিয়েছে। রক্তাক্ত করেছে অন্যদেরও। শেষ পর্যন্ত আক্রমণকারী পাঁচজনকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেছিল অন্য দলের কর্মীরা। পুলিশ তাদের চা-টা খাইয়ে শাহবাগ থানা থেকে ছেড়ে দিয়েছে।

পুলিশের চার স্তরের নিরাপত্তা ছিল। আসলে চার স্তরের, তিন স্তরের নিরাপত্তা-ফিরাপত্তা এগুলো পুলিশের নিতান্তই বাকোয়াজি। আজ পর্যন্ত কোনো দিনই মনে হয়নি, পুলিশ সত্যি সত্যি এ ধরনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। কারণ, এর আগে টিএসসির মোড়ে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি অভিজিৎ রায় ও তার স্ত্রী বন্যা আহমেদ ঘাতকদের হামলার শিকার হন। এতে মৃত্যু হয় অভিজিতের। পুলিশ দাঁড়িয়ে তামাশা দেখছিল। তারা ভেবেছিল বোধহয় কোনো ঝগড়াঝাটি হচ্ছে। অভিজিতের মাথায় কোপ দিয়ে তাকে হত্যা করে ঘাতকেরা হেঁটে একজন বাংলা একাডেমির দিকে এবং একজন কলাভবনের দিকে চলে যায়। অভিজিতের লাশ পড়ে থাকে। বন্যা আর্তচিৎকার করতে থাকে। পুলিশ দাঁড়িয়েছিল এমনকি অভিজিৎকে হাসপাতালে নিয়ে যায়নি। ধিক পুলিশকে।

শেষ পর্যন্ত একজন ফটোগ্রাফার একটি সিএনজি থেকে যাত্রী নামিয়ে অভিজিৎ ও বন্যাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। অভিজিৎ মারা গেছেন। বন্যা বেঁচে গেছেন। পুলিশের চার স্তরের নিরাপত্তা কার কী কাজে এসেছে বলা মুশকিল। তার মধ্যেও বাংলা একাডেমির গেটে হাসানুল হক ইনু, আসাদুজ্জামান নূর ও রাশেদ খান মেনন এই তিন মন্ত্রীর গাড়িতে দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়েছে। কেউ অ্যারেস্ট হয়নি। অভিজিৎকে হত্যার সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ফারাবি নামে এক ব্লগারকে আটক করেছে পুলিশ। অভিজিতের পিতা অধ্যাপক অজয় রায় অভিযোগ করেছেন, ফারাবিকে কেন আটক করা হলো? সে তো ঘটনাস্থলে ছিল না। ধারণা করি, অভিজিৎ হত্যা রহস্য কোনো দিন উদঘাটিত হবে না। ফারাবিকে নিয়ে টানাহেঁচড়া চলতে থাকবে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও ঘটেছে একই ঘটনা। সেখানেও ছাত্রলীগের ছেলেরা নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের বস্ত্র হরণ করে নগ্ন করে তাদের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছে। পুলিশের অফিসার হয়তো বলবেন, সেখানেও চার স্তরের নিরাপত্তা ছিল। তাহলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এমন ঘটনা কেমন করে ঘটল? কেউ জবাব দেয়নি। পুলিশও না। এ ধরনের জনবিরোধী, মুখে কুলুপ আঁটা পুলিশবাহিনীর সত্যি কি কোনো প্রয়োজন আছে?
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা আরো ভয়াবহ। সেখানে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা অবিরাম ছাত্রলীগারদের হাতে ধর্ষিত, লাঞ্ছিত হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে, কোনো তরুণীকে যদি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে হয়, তাহলে তাকে এই নিগ্রহ মেনে নিয়েই পড়তে হবে।

কিন্তু পয়লা বৈশাখ সেখানে যা ঘটল, তা অভাবনীয়। ছাত্রলীগের কিছু নেতা এক উপজাতীয় শিক্ষার্থীকে অন্ধকারের দিকে টেনে নিয়ে ধর্ষণ করার চেষ্টা করে। এমন ঘটনা হয়তো আরো ঘটেছে। কেউ এড়িয়ে গেছেন। কেউ যাননি। ছাত্রীটির আর্তচিৎকারে আশপাশের অন্য ছাত্ররা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে এবং আটক করে ছাত্রলীগের পাঁচ নেতাকে। তাদের বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হাতে সোপর্দ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই ছাত্রলীগ নেতাদের ‘বহিষ্কার’ করে। হ্যাঁ! জাবির বহিষ্কার এক আজিব পুরস্কার।

সেখানে বহিষ্কৃতরা ক্লাস করে। ঠিক ঠিক পরীক্ষা দেয়। যথারীতি পাস করে। তারপর ছাত্রলীগ পরিচয়ের কারণে কোথাও চাকরিতে ঢুকে যায়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই ন্যক্কারজনক কাণ্ডকে ধিক্কার জানাই। আর সরকারের উদ্দেশে সম্ভবত জনগণের এখন একটাই অভিশাপ বাক্য, ‘দূর হ দুঃশাসন’।

সাংবাদিক ও সাহিত্যিক।

সর্বশেষ খবর