বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১০:১২

শিল্প-সংস্কৃতি
শনিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৭ ০৬:৫৮:৫৮ অপরাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

বইমেলায় এল কবরীর ‘না বলা গল্প’

অর্ধ শতাব্দী আগে রুপালি জগতে পা রেখেই মিষ্টি নিজের তকমা পেয়ে যাওয়া কবরী নিজেই লিখলেন তার জীবনের না বলা গল্প; আর তা বইয়ের মোড়কে আনল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর পাবলিশিং লিমিটেড- বিপিএল।

 

 

শনিবার একুশের বইমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে এই জীবনগাথার মোড়ক উন্মোচন হয়, আসরের মধ‌্যমনি হয়ে ছিলেন এখনও অনেকের স্বপ্নরানি কবরী, সেই ভুবনমোহিনী হাসি নিয়ে।

কোনো ঘোষণা ছাড়াই মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিতি কবরীর জনপ্রিয়তাই আবার নতুন করে জানান দেয়।

“কবরী সম্পর্কে কী বলবো, কবরী আমাদের সময়কার হার্টথ্রব। তার সেই স্মৃতি এখনও আমাদের মধ্যে,” বলেন ষাটের দশকের ছাত্রনেতা ডাকসুর ভিপি মেনন।

মেনন যখন রাজপথ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন, তখন রুপালি পর্দায় কাঁপাচ্ছিলেন এই কবরী, যার হাত ধরে অভিষেক ঘটে ওই সময়ের প্রায় সব তারকা অভিনেতার।

নিজের বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে কবরী বলেন, “আমি নতুন করে কী বলবো? আপনারা তো আমার মনের কথা জানেন। আমি জানি, আমার দর্শক, শ্রোতা, যারা আমাকে ভালোবাসেন, তারা আমার মনের কথা জানেন।”

“আমি আপনাদের পাশেই ছিলাম। আগামীতেও থাকব,” বলে নিজের বইটি সবাইকে কেনার আহ্বান জানান তিনি।

“বই না পড়লে কিছুই জানা যায় না। বই আপনাকে অনেক সুন্দর সুন্দর জায়গায় নিয়ে যাবে। বই আপনার সময় কাটাবে। দুঃখমোচন করবে। অনেক কিছু শেখাবে।”

 

 

‘স্মৃতিটুকু থাক’ শিরোনামে কবরীর এই আত্মজৈবনিক রচনায় ঢাকাই সিনেমার সদর-অন্দরের পাশাপাশি এই শিল্পের উপর মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধ পরবর্তী রাজনীতির অভিঘাতের কথা উঠে এসেছে।

 

বিপিএলের একজন মুখপাত্র বলেন, এই বইয়ে রয়েছে কবরীর ‘অপ্রকাশিত কিছু ছবি আর অজানা কিছু গল্প’।

ষাটের দশকে স্কুলপড়ুয়া মিনা পালের বাংলা চলচ্চিত্রের ‘কবরী’ রূপে আত্মপ্রকাশ, উত্তাল একাত্তরে বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের পক্ষে ভারতের বড় বড় শহরে জনমত সংগঠন, সেলুলয়েডের বাইরে রাজনীতি জীবনের টুকরো টুকরো স্মৃতি দুই মলাটে বেঁধে কিংবদন্তি এই অভিনেত্রী প্রথমবারের মতো এলেন লেখক পরিচয় নিয়ে।

এই বইয়ের পাণ্ডুলিপি পড়ে কবি নির্মলেন্দু গুণ লিখেছেন- “স্মৃতিটুকু থাক- এর পাণ্ডুলিপি পাঠ করে আমার মনে হলো, আমি কোনো কবির রচিত আত্মজৈবনিক গদ্য পাঠ করছি।”

মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে কবির এই উদ্ধৃতি সবার সামনে তুলে ধরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী বলেন, ‘আমার আর কিছু বলার নেই।”

“চিত্রনায়িকা কবরীর এই রচনা শুধু তার জীবনই নয়। পাকিস্তানি ছায়াছবির রাহুগ্রাস থেকে মুক্তিপ্রত্যাশী বাংলা ছায়াছবি এবং পূর্ব বাংলার মানুষের সাংস্কৃতিক মুক্তি সংগ্রামের এক বিশ্বস্ত দলিলও বটে”- কবি গুণকে উদ্ধৃত করে তৌফিক খালিদী পাঠকদের উদ্দেশে বলেন, “আমরা আশা করবো, আপনারা বইটা পড়বেন।”

কবরীকে নিয়ে এক সময় স্বপ্নাবিষ্ট থাকা মেনন বইটি নিয়েও নিজের আগ্রহের কথা জানান।

“আমাদের এখানকার সিনেমা শিল্পের যাত্রা এবং অগ্রগতি যেটা কিছুটা হলেও মুখ থুবড়ে পড়েছে, সেই পুরনো স্বাদটা এখানে খুঁজে পাব।”

সর্বশেষ খবর